বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া জমে আছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ফোর্থ বাংলাদেশ চায়না রিনওয়োবেল এনার্জি ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে—৩৫ শতাংশ বেসরকারি এবং ৬৫ শতাংশ সরকারি মালিকানা। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে সরকারি মালিকানা নেমে এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশে, আর বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এমনিতেই একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান, তার ওপর এটি একমাত্র ক্রেতা হিসেবে কাজ করছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে একাধিক কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রশাসনিক ব্যয় বেড়েছে এবং উচ্চ বেতন কাঠামো তৈরি হলেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি উৎপাদকরা জ্বালানি আমদানির জন্য আগাম অর্থ দাবি করছে। রাজকোষ প্রায় শূন্য অবস্থায় রয়েছে এবং বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই সংকটের মধ্যেই পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এখন দেশে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে, যা আগামী সপ্তাহের মধ্যে কমিয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী প্রধান আশিক চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ব্যবসায়ী নেতারা।