১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করলেই মামলার হুঁশিয়ারি

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার জের ধরে উত্তপ্ত ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কে নতুন করে কালো মেঘ ভর করেছে এ হামলার ঘটনায়। মর্মান্তিক এ হামলায় নিহত হয়েছে ২৬ জন নাগরিক। যার ফলে প্রতিবাদে উত্তাল গোটা দেশ।

কাশ্মীর হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে বিভেদের দেয়াল উঠতে শুরু করেছে। ভারতে সব ধরনের পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষেধের দাবি তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে ফের পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অশোক দুবে দাবি করেছেন, এবার পাক শিল্পীদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।

সংবাদমাধ্যমকে অশোক বলেছেন, ‘দেশের সমস্যা এটা। সবার ওপরে দেশ। একের পর এক হামলা চলছে দেশের ওপরে। সম্প্রতি আমাদের দেশের পর্যটকদের ওপর হামলা চালানো হল পেহেলগামে।

২৬ জনের মৃত্যু হলো। সেই হামলার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চাপানউতর বেড়েছে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছেও চিঠি লিখে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অশোক। সেই চিঠিতে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি করা হয়েছে। অশোক আরো বলেছেন, ‘আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সব দপ্তরকেই আমরা চিঠি পাঠাচ্ছি।

অশোক হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, ভারতের কেউ ফের কোনো পাক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে, তাকেও ইন্ডাস্ট্রিতে নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলাও করা হবে। অশোক বলেন, ‘আমাদের দেশের কেউ পাকিস্তানি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করা হবে, যাতে আর কেউ এই কাজ করার আগে হাজারবার ভাবেন।’

পাক অভিনেতা ফাওয়াদ খানের ‘আবির গুলাল’ নিয়েও কথা বলেন অশোক। এই সিনেমা যাতে মুক্তি না পায়, তার জন্য প্রযোজক বিবেক আগারওয়ালকেও চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। ৯ মে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর পর ভারতে মুক্তির অপেক্ষায় কোনো পাকিস্তানি অভিনেতার সিনেমা। তবে সেটিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।