১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সংসদে কেন যাচ্ছেন, জানালেন নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন। সেই সংসদে শুনছি ফ্যাসিস্টের দোসর, ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া লেজুড় বক্তব্য দেবে, ভাষণ দেবে। আমি স্পষ্টভাবে বলে যাচ্ছি, কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে যাচ্ছি না।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয় সংসদে যাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষ এই ইলেকশনে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সংস্কারের পক্ষকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে যাচ্ছি। জাতীয় সংসদে যাচ্ছি কবে উচ্চকক্ষ হবে, কবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে সেই হিসাব নেওয়ার জন্য। কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না।

ঢাকা-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য এ সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।

ইফতারের আগে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন; রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক।

এনসিপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন সভাপতিত্ব করেন। মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার, তাহসিন রিয়াজ, সাইফ মুস্তাফিজ, যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

ইফতার অনুষ্ঠানে বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।