ইতিবাচক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষাপটে একটি গোষ্ঠী মিসইনফরমেশন ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনে এক পরীক্ষার্থীর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রতারকরা রাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নানা অজুহাত দেয়, এবং বলে “টেকনিক্যাল সমস্যা”, “অল্পক্ষণ পর দেওয়া হবে” ইত্যাদি। অথচ পরদিন দাবি করা হয় আগেই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের আসলে প্রশ্ন দেওয়ার কোনো সক্ষমতাই ছিল না।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, চক্রটি প্রথমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেয়, এরপর সময়ক্ষেপণ করে এবং শেষপর্যন্ত গ্রুপ বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। তাদের আরেকটি কৌশল হলো, পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগে আপলোড করা হয়েছিল, এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পরে তাদের ফাঁদে পা দেয়।
ওই চক্রটির প্রসঙ্গে মাহদী আমিন আরো বলেন, মূলত তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আগের রাতের আপলোড করা ভুয়া প্রশ্নের ছবি সরিয়ে মূল প্রশ্ন রিপ্লেস করে, যাতে পরবর্তীতে যারা প্রশ্ন কিনতে চাইবে, তাদেরকে দেখানো যায় যে তাদের ফাঁস করা প্রশ্ন সঠিক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় থেকেই এই অপকৌশল গ্রহণ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল এই অপচক্র, এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে।
সত্যিকার প্রমাণ না থাকায় সেই বেসরকারি টেলিভিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিবেদন সরিয়ে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তারা (বেসরকারি টেলিভিশন) বক্তব্য প্রদান করে: “ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিতে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি থাকায় বোর্ডের প্রতিবাদলিপির পূর্বেই তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আমরা দর্শক ও পাঠকদের নিকট সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে, এটি প্রশ্নফাঁস নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস না ঘটে।