শান্তিতে নোবেল আমার পাওয়া উচিত, তবে দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প
বিশ্বজুড়ে নানা সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ফিরিস্তি তুলে ধরে নিজের ঝুলিতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁর হাতে শেষ পর্যন্ত এই সম্মাননা তুলে দেবে কি না, তা নিয়ে খোদ ট্রাম্পেরই রয়েছে যথেষ্ট সংশয়।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম প্রকাশ করতে যাচ্ছে নরওয়ের নোবেল কমিটি। তার ঠিক আগের দিন, বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই আকাঙ্ক্ষা ও সন্দেহের কথা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল তিনি প্রত্যাশা করছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সোজাসাপ্টা বলেন, “বিশ্বশান্তিতে আমার কাজের বিচারে নোবেল পুরস্কারটি আমারই পাওয়া উচিত। তবে নরওয়েজীয় কমিটি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা বলা কঠিন। আমার মতো মানুষদের বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের পুরোনো এক ধরনের ঐতিহ্য রয়েছে।”
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। গত বছরও এই পুরস্কার নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তৈরি করেছিলেন আলোচনা। ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই নোবেল মেডেলটি তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দেন।
পুরোনো সেই স্মৃতির কথা টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “গতবার পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব যখন নিজ মুখেই স্বীকার করেছিলেন যে ইতিহাসের অন্য যেকোনো নেতার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই এই নোবেলের জন্য সবচেয়ে বেশি যোগ্য, তখন একপ্রকার পরোক্ষভাবে আমি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছি বলেই মনে করি। তবে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সময় এসেছে।”
দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের আটটি বড় সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিয়েছেন বলে দাবি ট্রাম্পের। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বশান্তিতে এই বিশেষ অবদানের জন্য তাঁর হাতেই এবার নোবেল ওঠা উচিত।
ইতোমধ্যে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনীত করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই ধরনের মনোনয়নের বিষয়ে নোবেল কমিটি নীতিগতভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করায় তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বিশ্বশান্তিতে ট্রাম্পের কথিত অবদানের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র বিতর্ক। যেসব সংঘাত নিরসনের কৃতিত্ব ট্রাম্প দাবি করছেন, সেগুলোর কয়েকটি পক্ষ সরাসরি তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা অস্বীকার করেছে। উপরন্তু ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করার জোরালো আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ইরান ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকটের প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের নোবেলজয়ী হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শীর্ষ তালিকায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ লিওর নাম বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।