মহারাষ্ট্রে শিশুসন্তানের পোশাক নিয়ে তুলকালাম: সিংহগড় দুর্গে পর্যটক পরিবারকে বেধড়ক মারধর, চরম আতঙ্ক
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক দর্শনীয় ঐতিহাসিক দুর্গে ঘুরতে গিয়ে চরম হেনস্থা ও শারীরিক হিংস্রতার শিকার হয়েছেন একদল পর্যটক। পরিবারের এক আট বছরের কন্যাসন্তানের পরিধানের পোশাক ‘শালীন নয়’—এমন অহেতুক অজুহাত তুলে ঐতিহ্যবাহী সিংহগড় দুর্গে ওই পরিবারটির ওপর চড়াও হয় স্থানীয় কিছু যুবক। এ সময় নীতি পুলিশের ভেক ধরে নারী ও শিশুসহ পুরো পর্যটক দলকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আমেজ ঘিরে সিংহগড় দুর্গে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এমনই এক আনন্দঘন মুহূর্তে পরিবারটি দুর্গে প্রবেশ করলে অভিযুক্ত যুবকেরা তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। পরিবারের ছোট্ট মেয়েটি কেন হাফপ্যান্ট বা ছোট পোশাক পরে এসেছে—তা নিয়ে তারা অভদ্র ভাষায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। পর্যটকরা এই অনাবশ্যক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানালে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তর্ক-বিতর্ক হাতাহাতিতে গড়ায়।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী নিজেদের ‘দুর্গ সংরক্ষণ সমিতি’র সদস্য পরিচয়ে অভিযুক্তরা তথাকথিত নীতি পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলাকারীরা কোনো কিছু না ভেবেই পর্যটক পরিবারটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের এই তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি কোনো নারী, শিশু কিংবা বয়স্ক সদস্যও। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সন্ত্রাসী পরিস্থিতিতে দুর্গে উপস্থিত অন্যান্য দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় হাভেলি থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা সন্দীপ সিং গিল জানান, পর্যটকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্থানীয় ৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে পুনে পুলিশ প্রশাসন।