১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান শেষে যেসব তথ্য দিল পুলিশ

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পুলিশ এবং র‌্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে সীতাকুণ্ড থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর খুলশী এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, রাষ্ট্র তথা প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে ২০০৩ সাল থেকে সরকারের ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমিতে ৩৪টি পাহাড় কেটে লাখো মানুষের কাছে বিক্রির উৎকৃষ্ট উদাহরণ জঙ্গল সলিমপুর। কোথাকার কোন ইয়াছিন ও জলিল মেম্বার কিভাবে কার মদদে বছরের পর বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে এটি উৎকণ্ঠার বিষয়। এখানে যারা জমির মালিক হয়েছে তারা কিভাবে জমি পেল, তা বাতিল করা যায় কিনা- সেই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সোমবার পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৫০০ সদস্য, জেলা পুলিশের ১৫০ সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮০০ সদস্য, রেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ৪০০ সদস্য, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের ১৫০ সদস্য, র‌্যাবের ৪০০ সদস্য ছিল। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, ৩টি ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

আহসান হাবীব পলাশ বলেন, চিরুনি অভিযানে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র (১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি দেশীয় পিস্তল ও ১টি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, থ্রিডি ডিভিআর, ১টি পাওয়ার বক্স এবং ২টি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে; যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে আমরা উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে পাইনি। তবে এলাকায় আমাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সেখানে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

ডিআইজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে মানুষ ও প্রশাসন যেতে ভয় পেত। মানুষের ভয় কাটানোর জন্য সলিমপুরে অভিযান চালানো হয়েছে। যৌথ অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এখন নিয়মিত টহল টিম যাবে, চেকপোস্ট বসানো হবে। এখানে যেন সহজে যাওয়া যায় সেজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবে জেলা প্রশাসন। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুর থেকে ৭.৬২ বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মিয়ানমারে ব্যবহার করা হয় এমন গুলিও। জঙ্গল সলিমপুরে এসব গুলি ও অস্ত্র কোথা থেকে এলো, কারা তা ব্যবহার করছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর দুটি অংশে বিভক্ত। এর একটিকে ছিন্নমূল ও অপরটি আলীনগর নামে পরিচিত। এর মধ্যে ছিন্নমূলের নিয়ন্ত্রণ রোকন উদ্দিন ও তার অনুসারীদের হাতে এবং আলীনগরের নিয়ন্ত্রণ মোহাম্মদ ইয়াছিন ও তার অনুসারীদের হাতে। গত বছরের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় মোহাম্মদ ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।

সবশেষ ১৯ জানুয়ারি সেখানে অভিযানে গিয়ে র‌্যাব সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া মৃত্যুর পর আবার আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর ও সেখানকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিহতের জানাজায় এসে র‌্যাবপ্রধান একেএম শহীদুর রহমান জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর প্রায় দেড় মাস পর সোমবার সেই অভিযান হয়েছে।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।