খামেনির জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ: তেহরানে ৩ দিনের সরকারি ছুটি
চলতি ২০২৬ বছরের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকাজের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাসে নির্ধারিত এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৬ জুলাই রাজধানী শহরে মূল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে ৪, ৫ ও ৬ জুলাই তেহরান প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জুলাই পুরো ইরানজুড়ে সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে।
একনজরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের সময়সূচি:
নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কর্মসূচির মূল রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
৪ ও ৫ জুলাই (শনিবার ও রবিবার): তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য রাখা হবে। (তেহরানে সরকারি ছুটি)
৬ জুলাই (সোমবার): তেহরানে সাবেক এই নেতার মূল ও সর্ববৃহৎ জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। (সমগ্র ইরানে সাধারণ ছুটি)
৭ জুলাই (মঙ্গলবার): তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ ইরানের অন্যতম পবিত্র ও ধর্মীয় নগরী কোমে (Qom) নিয়ে যাওয়া হবে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।
৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার): খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের (Mashhad) পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে।
জানাজায় রেকর্ড ২ কোটি মানুষের সমাগমের আশা:
ইরানের ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানের প্রধান জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই ঐতিহাসিক জমায়েতকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে ইতিমধ্যেই রাজধানী তেহরানসহ মাশহাদ ও কোমে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় চীন, রাশিয়া ও আরব বিশ্বের বহু উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।