ককপিটে পাইলটদের হাতাহাতি: দু’মিনিটে সাড়ে ১৬ হাজার ফুট নিচে নামল যাত্রীবাহী বিমান, সৌদিতে জরুরি অবতরণ
আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারির জেরে ফ্লাইটটির চরম নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। যার ফলে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে উড়োজাহাজটি ১৬ হাজার ৬০০ ফুট নিচে নেমে যায়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে রওয়ানা দেওয়া বিমানটি।
বুধবার ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে এই গোলযোগের সূচনা হয়। বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ার সময় দুই চালকের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনার একপর্যায়ে ককপিট থেকে হঠাৎ ‘৭৭০০’ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়, যা সাধারণত বিমান ছিনতাই বা চরম সংকটের সময় ব্যবহৃত হয়। এরপরই বিমানটির গতিপথ ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তা জরুরি অবতরণ করানো হয়।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ককপিটে তুমুল মারামারির সময় এক পাইলট অপরজনকে ছুরিকাঘাত করেন বলেও খবর এসেছে। অন্যদিকে, কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এক পাইলট আত্মহত্যা বা বিমানটি ক্র্যাশ করানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিচের দিকে নামিয়ে দিতে থাকেন। তবে দ্বিতীয় চালকের প্রতিরোধ ও হস্তক্ষেপে বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, বিমানটির সামনের অংশ থেকে চিৎকার ও গণ্ডগোলের বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে খাড়া নিচের দিকে পড়তে থাকে, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করে। সৌদিতে অবতরণের পর বর্তমানে সব যাত্রী নিরাপদে বিমানের ভেতরে অবস্থান করছেন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের ঘিরে রেখেছে।
এ বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তারা আঞ্চলিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এদিকে এ ঘটনায় জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি এক বার্তায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ফেরত আনার কার্যক্রম চলছে।