১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে ‘কালো বৃষ্টি’ হচ্ছে

ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার পর ‘কালো বৃষ্টির’ হচ্ছে বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন-ইসরাইলি বোমাবর্ষণের পর আকাশে সৃষ্ট ‘কালো বৃষ্টি’ এবং বিষাক্ত যৌগগুলো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে।

ইরানে সংস্থাটির একটি অফিস আছে এবং তারা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজও করছে। তারা জানায়, সংস্থাটি এই সপ্তাহে তেল-মিশ্রিত বৃষ্টির একাধিক রিপোর্ট পেয়েছে।

জেনেভায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, ‘কালো বৃষ্টি এবং এর সঙ্গে আসা অ্যাসিড বৃষ্টি প্রকৃতপক্ষে জনস্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের জন্য একটি বড় বিপদ।’

তিনি আরও জানান, ইরান ইতোমধ্যে জনগণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি এই পরামর্শ সমর্থন করে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে—অর্থাৎ তেল মজুত করার স্থাপনা এবং শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে আগুন লেগেছে এবং বাতাসের গুণমান নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—সেই বিবেচনায় ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শটি অবশ্যই একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও জানান, এই হামলার কারণে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন যৌগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

 

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।