মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান। শান্তি আলোচনা যখন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের কথা জানা গেল।
সোমবার (১৮ মে) রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক সূত্র।
দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে কোনো সমঝোতায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে সূত্রটি আরও যোগ করে, উভয় দেশই (যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) ঘনঘন তাদের অবস্থান ও শর্ত পরিবর্তন করছে।
অন্যদিকে, তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইরানের কোনো শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাকায়ি বলেন, এ অঞ্চলের জন্য মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল বড় হুমকি। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে তেহরান সবসময় হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার অন্তরালে আলোচনা সচল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরান একটি নতুন কৌশলগত পদ্ধতি বা মেকানিজম নিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন বাকায়ি। তিনি জানান, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সার্বিক প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের বিষয়ে ওমান সালতানাতের সঙ্গে তেহরানের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।