আগামী হজে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা সৌদি আরবের, বাদ পড়ছে ‘প্যাকেজ ডি’

জুন ১, ২০২৬ Times Asian24
dhakatoday1780243410Untitled
Share: Facebook X WhatsApp

​আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ মৌসুমের জন্য এখন থেকেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে সৌদি আরব। এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় একাধিক বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীদের সেবা সহজ করা, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন সংস্কার আনা হচ্ছে।

​সম্প্রতি মক্কায় আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের এক বার্ষিক সমাপনী অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল রাবিয়াহ এই নতুন পরিকল্পনা ও রূপরেখা প্রকাশ করেন।

​বাংলাদেশি হজযাত্রীসহ বিশ্ববাসীর জন্য আগামী হজের প্রধান পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

​১. ‘অল-ইন-ওয়ান’ সমন্বিত সেবা মডেল
​আগামী বছর থেকে সৌদি আরবে একটি একক বা ইউনিফাইড প্যাকেজ চালু হচ্ছে। এর আওতায় মক্কা ও মদিনার আবাসন (হোটেল), অভ্যন্তরীণ পরিবহন এবং খাবার আলাদা না রেখে, সব সেবা একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বাধ্যতামূলক প্যাকেজ করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানকালে প্রত্যেক হজযাত্রীকে এই সমন্বিত সেবা নিয়মের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

​২. বাদ পড়ছে ‘প্যাকেজ ডি’, থাকছে ৩ শ্রেণি
​হজ প্যাকেজগুলোকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিদ্যমান অফার বা ক্যাটাগরিগুলো কমিয়ে মাত্র ৩টি শ্রেণিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। হজযাত্রীদের চাহিদা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন এই নিয়মে বর্তমানের বহুল পরিচিত ‘প্যাকেজ ডি’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

​৩. হজ কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ
​হজ ব্যবস্থাপনার মান বাড়াতে এবারই প্রথম সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোর কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ছাড়া আগামী হজের কোনো ভিসা বা প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (পারমিট) ইস্যু করা হবে না।

​৪. চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে আবাসন বুকিং
​আগামী হজের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে একটি সময়সূচিও চূড়ান্ত করেছে সৌদি মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকেই বিভিন্ন দেশের হজ কার্যালয় ও আন্তর্জাতিক হজ এজেন্সিগুলো মক্কা ও মদিনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হোটেল বা আবাসন বুকিং করতে পারবে। এই বুকিং প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত।

​পবিত্র স্থানে অগ্রাধিকার: যে সমস্ত এজেন্সি বা সংস্থা মিনা ও আরাফাহর মতো পবিত্র স্থানগুলোতে তাদের আগের অবস্থান বা জায়গা ধরে রাখতে চায়, নতুন সমন্বিত সেবা প্যাকেজে চুক্তি করার সময় তারা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।
​বিশ্বের বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল করতেই সৌদি সরকার এই নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *