চীন সফরে ঢাবি উপাচার্য: সমুদ্র গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে দক্ষিণ এশীয় ফোরামে অংশগ্রহণ
মোকাবিলা ও টেকসই সামুদ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্র উন্মোচনে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে চীন সফরে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে এয়ার চায়নার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
উপাচার্যের বিদেশ অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রুটিন দায়িত্বে থাকবেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
চীনের শাংদাও শহরের স্টারলাইট আইল্যান্ড কনফারেন্স সেন্টারে আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া মেরিন কো-অপারেশন ফোরাম’। দেশটির ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এফআইও) এবং শাংদাও নগর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে চীন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের খ্যাতনামা সমুদ্রবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নবায়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের ভূমিকা
- চুক্তি নবায়ন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা: সফরকালে ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এফআইও) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করা হবে। এতে করে যৌথ উদ্যোগে সমুদ্রবিজ্ঞানবিষয়ক আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা, বঙ্গোপসাগরের আগাম সতর্কতা সংকেত ব্যবস্থা চালু এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের নতুন পথ খুলবে।
- দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস: আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির দুই দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও উপকূলীয় ঝুঁকি হ্রাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।
- সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি): কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার ও ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত কারিগরি সেশনে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- মহাসাগরের বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন: ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্সের পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী উত্তর বঙ্গোপসাগরে অক্সিজেনের সাময়িক স্বল্পতা নিয়ে নিজ গবেষণার ফলাফল বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, বিশ্বমানের এ প্ল্যাটফর্মে ঢাবি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ এবং এফআইও-এর সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নবায়নের ফলে বাংলাদেশে সমুদ্রবিজ্ঞান চর্চা, অ্যাকাডেমিক আদান-প্রদান এবং উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষার গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।