সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: নতুন পে-স্কেলে ধাপে ধাপে পদোন্নতি ও ভাতার নিয়মে আমূল পরিবর্তন

September 16, 2026 Times Asian24
New Pay Scale 1
Share: Facebook X WhatsApp

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ২০২৬-এ এসেছে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও পদোন্নতি না পাওয়া কর্মী ও ব্লকেড পদে থাকা কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেড সুবিধা সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতার নিয়মেও আনা হয়েছে বড় ধরনের সংস্কার।

​সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই বেতন কাঠামো নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। এতে মূল বেতনের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি ব্যবস্থা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পদোন্নতি না পাওয়া কর্মচারীরা একই পদে আট বছর চাকরির পর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাবেন, যা আগে ছিল ১০ বছর। পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে একই পদে ছয় বছর চাকরির শর্ত রাখা হয়েছে।

​যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই (ব্লকড পদ), সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরো চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয় ধাপে পরবর্তী আট বছর চাকরির পর এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বেতন কাঠামো ও ভাতা ব্যবস্থার সংস্কার

নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ—উভয় ধাপে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

​ভাতা কাঠামোর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • চিকিৎসা ভাতা: বয়সের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা ভাতায় বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিরা পাবেন ৪ হাজার টাকা। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সি পেনশনভোগীদের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
  • মোবাইল ভাতা: ইতিহাস প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি/মোবাইল ভাতা চালুর বিধান রাখা হয়েছে। ১ম থেকে ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা পাবেন ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১৫০ টাকা।
  • অন্যান্য ভাতা: টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে বৈশাখী উৎসব ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাহাড়ি ও হাওড় অঞ্চলের ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
  • বাড়ির ভাড়া সূচক: ঢাকার ভেতরে বাসা ভাড়ার শতাংশের হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হলেও মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় সার্বিকভাবে বাড়ি ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

​নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। ২০২৪ সালে চালু করা সাময়িক বিশেষ প্রণোদনাটি নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল বলে গণ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *