যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পর পর্দা উন্মোচন: বিষাক্ত বাতাস ও সরকারের গোপন সত্য প্রকাশ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ব্ল্যাক ডে বা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দীর্ঘ আড়াই দশক পর অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর তথ্য। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ম্যানহাটনের আকাশ বাতাস কতটা বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল, তা জেনেও তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে সত্য গোপন করেছিল। এমনকি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকার পরও নগরবাসীকে মিথ্যার সাগরে ভাসিয়ে বাতাসকে ‘নিরাপদ’ বলে অভয় দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এ সংক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার অপ্রকাশিত ও গোপন সরকারি নথি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চেপে রাখা এসব নথিতে উন্মোচিত হয়েছে মার্কিন নগর ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং সত্য গোপনের নগ্ন ছবি।
নথিতে কী মিলল?
প্রকাশিত ‘হার্ডিং মেমো’ সহ বিভিন্ন দলিলে দেখা যায়, তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির প্রশাসন ও শীর্ষ কর্তারা ভালো করেই জানতেন ধূলিমেঘে মারাত্মক ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ‘অ্যাসবেস্টস’ সহ বিষাক্ত কেমিক্যাল বিদ্যমান। বায়ুদূষণ ও অপর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের কারণে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ হাজারের মতো আইনি মামলা বা আর্থিক দায়বদ্ধতার মুখে পড়তে হতে পারে—এ আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে তহবিল পাওয়ার নানা কৌশল এঁটেছিল প্রশাসন। কিন্তু জনরোষ ও ক্ষতিপূরণের ভয়ে আসল সত্যিটা নাগরিকদের জানানো হয়নি। উল্টো বাসিন্দাদের সাধারণ ভেজা কাপড় দিয়ে ঘরদোর মোছার মতো হাস্যকর ও বিপজ্জনক পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
২৫ বছরের দীর্ঘ লড়াই ও ক্ষতি
উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের হাজার হাজার সদস্য উপযুক্ত মাস্ক বা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই ধ্বংসস্তূপে দিনের পর দিন কাজ করেছিলেন। এর ফলশ্রুতিতে গ্রাউন্ড জিরো এলাকায় অবস্থানকারী লাখো মানুষ পরবর্তী সময়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, পরিপাকতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হন। মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসির তথ্যমতে, প্রায় ৪ লাখ মানুষ সেই বিষাক্ত ধূলিকণার কবলে পড়েছিলেন। আর মূল ঘটনার পর থেকে গত ২৫ বছরে শুধু এই পরিবেশগত বিষাক্ততার কারণেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৪,৩৪৩ জন।
মেয়র জোহরান মামদানি ও ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’-এর মতো অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই ঐতিহাসিক নথি জনসম্মুখে এল। বিশিষ্ট কৌতুক অভিনেতা ও অধিকারকর্মী জন স্টুয়ার্ট সহ ভুক্তভোগীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, বহু দেরিতে হলেও সরকার অন্তত স্বীকার করতে বাধ্য হলো—সেদিন আকাশে সত্যি বিষ ছিল। প্রশাসন জানায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আগামী এক বছরে এ সংক্রান্ত আরও লাখ লাখ গোপন ফাইল প্রকাশ করা হবে।