নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে ইসির নীতি নির্ধারণী বৈঠক
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের খাসকামরায় এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ইসি সদস্য আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এতে অংশ নেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধি-বিধান, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপরই সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে ইসি। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে স্পিকারের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে—অর্থাৎ আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে—নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে জানান, জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে এই আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন সমন্বয় করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকভাবে তপশিল ঘোষণা করবে। ১৯৯১ সালের ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন’ অনুসরণ করে এই তপশিল প্রকাশ করা হবে, যেখানে মনোনয়ন পত্র দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার এবং চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের আইনপ্রণেতারাই এই নির্বাচনের ভোটার। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন (একটি আসনের গেজেট এখনও প্রক্রিয়াধীন)।
আইন অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে দুজন সংসদ সদস্যের সই এবং প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতি থাকতে হবে। সংসদ ভবনের ভেতরেই এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করবেন সিইসি। তবে সমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারিত হবে।