​ইয়েমেন উপকূলে জাহাজে গোলাগুলি, হুথিদের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের হুমকি

জুন ১০, ২০২৬ Times Asian24
kfhf 2026 06 10t161141007 1781086367
Share: Facebook X WhatsApp

​ইয়েমেন উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বালহাফ অঞ্চল থেকে ৮৮ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি ছোট নৌকায় চড়ে আসা বন্দুকধারীদের সঙ্গে জাহাজের নিরাপত্তা কর্মীদের এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউকেএমটিও জানায়, সন্দিগ্ধ ছোট নৌকাটি ধেয়ে আসলে জাহাজে থাকা সশস্ত্র নিরাপত্তা দল পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির একপর্যায়ে নৌকাটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে চলে যেতে বাধ্য হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

​বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন উত্তেজনা

​এই সংঘর্ষের ঠিক দুদিন আগে, গত সোমবার বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে ইসরায়েলি জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে নৌ-অবরোধ কার্যকর করার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা ও কৌশল হুথিদের রয়েছে। এর আগেও তারা এই প্রণালী ব্যবহারকারী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর গতিবিধি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাহত করেছিল।
​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাব-এল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক রুট। এখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া মানে কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া নয়, বরং গোটা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ
ব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া।

​ড্রোনের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার

​আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ইসরায়েলি ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজে হামলা চালাতে হুথিরা নিয়মিত ব্যালিস্টিক ও অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে সামুদ্রিক মাইন ও আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন করে তারা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে।
​”ইসরায়েলি কোনো জাহাজ যদি এই নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। আমাদের এই পদক্ষেপ একটি পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক অবরোধ হিসেবে কার্যকর থাকবে।”
— ** ইয়াহিয়া সারি, সামরিক মুখপাত্র, হুথি আন্দোলন**

​আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা

​এদিকে হুথিদের এক শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি ইয়েমেনে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
​তিনি আরও দাবি করেন, ইয়েমেনে হামলার পাল্টা জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তেমন কিছু ঘটলে অঞ্চলজুড়ে থাকা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং সম্পদ হুথিদের নতুন ও প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। হুথিদের এই সাম্প্রতিক হুমকি এবং ইয়েমেন উপকূলের এই বন্দুকযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *