ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জেনারেল-ক্যাপ্টেন নিহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবারের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ওই ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, নাবাতিয়েহ এলাকার কাফার তেবনিত ও খারদালির মধ্যবর্তী সড়কে সামরিক একটি গাড়িতে ওই হামলা হয়েছে। হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা এবং এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এই হামলাকে ‘আক্রমণাত্মক ও বর্বর অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, গাড়িটি ‘সন্দেহজনকভাবে’ সেনাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ওই এলাকায় গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
ইসরায়েল গত মার্চ মাস থেকে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। গোষ্ঠীটি প্রধানত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
আইডিএফ বলেছে, শনিবার যে গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি একটি ‘সরাসরি ও খালি করে দেওয়া যুদ্ধক্ষেত্র’ দিয়ে যাচ্ছিল। ওই অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় সেনাদের চলাচলের জন্য আইডিএফের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার না করলে ওই অঞ্চলে কোনও শান্তি আসবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক যুদ্ধে আমাদের যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার প্রাথমিক শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
এতে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষকে অবশ্যই লেবাননের জনগণের ওপর তাদের হামলা জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে লেবাননের অধিকৃত এলাকাগুলো খালি করে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সীমান্তের পেছনে পিছু হটতে এবং লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইসরায়েল।