মদিনায় গেলে যে ৪টি সুন্নত আমল অবশ্যই করবেন

জুন ১, ২০২৬ Imran Hossain
0005
Share: Facebook X WhatsApp

হজের সফর শুধু মক্কার ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মদিনা মুনাওয়ারার সফরও একজন মুমিনের হৃদয়ের গভীরতম আকাঙ্ক্ষার অংশ। এ শহরেই বিশ্রাম নিচ্ছেন মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাই হজের আগে বা পরে মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববি জিয়ারত করা, নবীজির রওজা মোবারকে সালাম পেশ করা এবং ঐতিহাসিক ইসলামি নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সুন্নত আমল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ حَجَّ فَزَارَ قَبْرِي بَعْدَ وَفَاتِي فَكَأَنَّمَا زَارَنِي فِي حَيَاتِي

‘যে ব্যক্তি আমার ওফাতের পর হজ করল, অতঃপর আমার কবর জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবিত অবস্থায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করল।’ বায়হাকি ৩৮৫৫)

আরও বর্ণিত হয়েছে—

مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي

‘যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করবে, তার জন্য আমার সুপারিশ আবশ্যক হয়ে যাবে।’ (দারাকুতনি ১৯৪)

তাই হজযাত্রীদের উচিত সুযোগ অনুযায়ী মদিনায় গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে সালাম পেশ করা এবং সুন্নত আমলগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া।

মদিনায় গেলে যে ৪টি সুন্নত আমল অবশ্যই করবেন

১️. মসজিদে নববিতে বেশি বেশি নামাজ আদায় করুন

মসজিদে নববি ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মসজিদ। এখানে এক রাকাত নামাজের সওয়াব সাধারণ মসজিদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ

‘আমার এই মসজিদে এক নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার নামাজ আদায়ের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ ১৪০৬, মুসনাদে আহমাদ ১৪৬৯৪)

মসজিদে নববির একটি বিশেষ স্থান সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ

‘আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।’ (বুখারি ১১৯৬, মুসলিম ১৩৯১)

২️. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করুন

মদিনায় অবস্থানকালে বারবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করুন এবং সালাত ও সালাম পেশ করুন।

এ সময় তার দুই মহান সাথী হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.)-কেও সালাম জানানো সুন্নত। এ ছাড়া মসজিদে নববির পাশে অবস্থিত জান্নাতুল বাকি কবরস্থান জিয়ারত করা যেতে পারে, যেখানে অসংখ্য সাহাবি, আহলে বাইত ও নেককার ব্যক্তিত্ব সমাহিত রয়েছেন।

৩️. মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করুন

মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম নির্মিত মসজিদ। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—

لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ ۚ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা-ই অধিক হকদার যে তুমি সেখানে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে। সেখানে এমন লোক রয়েছে যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে, আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১০৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় যেতেন। (বুখারি ১১৯৩)

তিনি আরও বলেছেন—

مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءٍ فَصَلَّى فِيهِ صَلَاةً كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ

‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে অজু করে মসজিদে কুবায় এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, সে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (ইবনে মাজাহ ১৪১২)

৪️. ওহুদের শহিদদের কবর জিয়ারত করুন

ওহুদ প্রান্তরে শায়িত আছেন ইসলামের বহু মহান শহিদ। তাদের মধ্যে রয়েছেন শহিদদের নেতা হজরত হামজা (রা.), হজরত হানজালা (রা.) এবং আরও অনেক সম্মানিত সাহাবি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝে মধ্যে ওহুদের শহিদদের কবর জিয়ারত করতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন।

এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি ওহুদের শহিদদের কবর জিয়ারত করে বলেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْهَدُ عَلَى هَؤُلَاءِ أَنَّهُمْ شُهَدَاءُ

‘হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এরা শহিদ।’ (মুসতাদরাকে হাকেম ৪৩২০)

বর্ণনায় আরও এসেছে, কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের কবর জিয়ারত করে সালাম দেবে, শহিদগণ তাদের সালামের জবাব দেবেন।

মদিনা মুনাওয়ারা শুধু একটি শহরের নাম নয়; এটি ইমান, ভালোবাসা ও সুন্নতের জীবন্ত স্মারক। হজের সফরে মদিনায় অবস্থানকালে মসজিদে নববিতে নামাজ আদায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত, মসজিদে কুবায় ইবাদত এবং ওহুদের শহিদদের স্মরণ— এসব আমল একজন মুসলমানের হৃদয়কে নববী ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে তোলে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মক্কা ও মদিনার বরকতময় সফর করার এবং সেখানে সুন্নত অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *