মিয়ানমারে খনির বিস্ফোরক ফেটে ২৫ নারীসহ ৫৫ জনের মৃত্যু
মিয়ানমারের শান রাজ্যে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গ্রামে খনি ও পাথর উত্তোলনের বিস্ফোরক থেকে ঘটা এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ এবং পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে চীন সীমান্তের কাছাকাছি নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শক্তিশালী এই বিস্ফোরণে নিহত ৫৫ জনের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে অন্যান্য কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হতাহতের এই সংখ্যাটি কিছুটা কমবেশি উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই কাউং তাত গ্রামটির ওপর দিয়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক বিস্ফোরক থেকে এই ‘আকস্মিক বিস্ফোরণ’ ঘটেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা ও বিকট শব্দ এতটাই বেশি ছিল যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় এক বাসিন্দা লিখেছেন— প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি জান্তা সরকারের কোনো ‘বিমান হামলা’ হতে পারে।
এই ঘটনার পর এক টেলিগ্রাম পোস্টে পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট/টিএনএলএ জানিয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সাথে তারা স্পষ্ট করেছে যে, দুপুরের এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং এই অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আশপাশে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে এবং চারদিকে ইট-পাথরের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পুরো এলাকাটি যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; পুড়ে যাওয়া অবশিষ্টাংশ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে দীর্ঘক্ষণ পরও ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় বর্তমানে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।