বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বর্তমান পুঁজিবাদী ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থায় শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানস্থ নগর শ্রমিক কল্যাণ কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও অঞ্চল পরিচালক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম মা’ছুম বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে সাধারণ শ্রমিক পরিবার চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন, বোনাস ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ না করায় শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষা করে টেকসই শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। শ্রমিক সংগঠনগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং শ্রমজীবী মানুষকে সংগঠিত করে অধিকার আদায়ের আন্দোলন বেগবান করতে হবে। দায়িত্বশীলদের আদর্শিক, সাংগঠনিক ও নৈতিকভাবে আরও দক্ষ হয়ে শ্রমিক সমাজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শ্রমিক আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক অধিকারের বিষয় নয়; এটি একটি নৈতিক ও মানবিক আন্দোলন। শ্রমিকদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চর্চা জোরদার না হলে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম সফল হবে না।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। একইভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদের ঐক্য ও সংহতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে তাদের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার চেতনা পৌঁছে দিতে হবে।
তাহলেই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিক সংগঠন সম্প্রসারণ ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।সম্মেলনে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।