ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। বুধবার (১৩ মে) ছিল এসব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপি ও এনসিপিসহ মোট ২৫টি দল তাদের ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বাকি ২৫টি দল তাদের হিসাব জমা দিয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
শেষ দিনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি জানিয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটি কেন্দ্রীয়ভাবে মোট ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে প্রচারণা খাতে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জনসভা আয়োজন বাবদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং স্টাফ খাতে ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দলটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। বাকি দলগুলো জমা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি বৃহস্পতিবার কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার সময় আরও এক মাস বাড়ানো হতে পারে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, কমিশন চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতে পারে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোও সময় বাড়ানোর আবেদন করে থাকে। তবে এবার এখন পর্যন্ত কোনো দল সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেনি।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে হিসাব জমা দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
জামায়াতের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, দলটির মোট নির্বাচনী ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। এর মধ্যে ২২৫ জন প্রার্থীকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি টাকা, যেখানে গড়ে প্রতি প্রার্থীকে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা করে সহায়তা করা হয়েছে।
এছাড়া দলটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বাবদ ২২ হাজার ৮৪৮ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার ডিজাইন ও ছাপা, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের খরচসহ বিভিন্ন খাতে মোট ব্যয় হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এবং ৯০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।