১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নবম জাতীয় পে স্কেলের সম্ভাব্য বেতন গ্রেড প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল ঘোষণার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে স্কেল দেওয়ার রীতি থাকলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই সচিবালয়সহ সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বর্তমানে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি এই কমিটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবে।

প্রস্তাবিত এই নবম পে স্কেলের একটি সম্ভাব্য খসড়া নিয়ে বর্তমানে সরকারি মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র, তবুও এতে ১ নম্বর গ্রেডের বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

একইভাবে ১০ নম্বর গ্রেডের বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০ নম্বর গ্রেডের বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৪৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাবনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো

গ্রেড বেতন স্কেল (টাকা)

০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)

০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা

০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা

০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা

০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা

০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা

০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা

০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা

০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা

১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা

১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা

১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা

১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা

১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা

১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা

১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা

১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা

১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা

১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা

২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা

উল্লেখ্য, এই তালিকাটি বর্তমানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার একটি অংশ মাত্র এবং এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেই এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 

সর্বশেষ

আরো সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।