১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি। তাই আমাদের অবশ্যই সেটিকে বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই কাজ করতে হবে।’

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে আজ একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশে আবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইফতারে মিলিত হতে পারা আল্লাহর রহমত।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন সংগ্রামের সময়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়া গেছে, তা সবসময় স্মরণ থাকবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। তিনি মরহুম নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতে একটি নতুন সরকার গঠিত হয়েছে এবং আগামীকাল সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে এবং সংসদ সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র, উদার গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় ইফতার পূর্ব আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।