৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কোচিং সেন্টার বন্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার

যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইন প্রবর্তনের তিন, পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, স্থাপন, সহায়ক বই প্রকাশের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এজন্য একটি বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিধিমালার খসড়া মতামত গ্রহণের জন্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত শিক্ষা আইন, ২০২৬ এর খসড়ায় কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক (নোট বই), গাইড বই প্রকাশ এবং প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে একটি বিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার মাধ্যমে প্রথমে এসব কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ধারাবাহিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হবে। এরপর আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার স্থাপন, নোট–গাইড প্রকাশ ও প্রাইভেট টিউশন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোচিং ও নোট-গাইড নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মৌলিক শেখার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে নোট ও গাইডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, কোচিং ও নোট-গাইডের কারণে আর্থিকভাবে সচ্ছল শিক্ষার্থীরা কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের সুবিধা পেলেও দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা মূল পাঠ্যবই না পড়ে সংক্ষিপ্ত নোট ও গাইডের ওপর নির্ভর করছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যবইভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি জোরদার এবং বিদ্যালয়ে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে কোচিং সেন্টার, নোট-গাইড এবং প্রাইভেট টিউশনি বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকার শিক্ষা আইনের খসড়ায় এ বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শাস্তির বিধান ছাড়া শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা অর্থহীন, হাস্যকর ও জাতির সঙ্গে তামাশা করার শামিল। যে সরকারের মেয়াদ আছে মাত্র এক সপ্তাহ সেই সরকার কর্তৃক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করার উদ্যোগ লোক দেখানো।

তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সরকার গত ১৬ বছরে বার বার এক মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া আইন আরেক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে খেলাধুলা করেছে। আবার মুমূর্ষু সরকার একই খেলায় মেতে উঠেছে এবং সরকারি কোষাগার থেকে শিক্ষা আইন প্রণয়নের নামে টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা করছে শেষবেলায় এসে। এ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করছি এবং তাড়াহুড়া করে এ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

সর্বশেষ