১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

‘বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় জার্মানি’

বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ। 

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অর্থ হলো জনগণের ভোট দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কাউকে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত না করা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব ভোটারের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই এর মূল শর্ত। আমি মনে করি, আমরা সেটিরই প্রস্তুতি দেখতে পাচ্ছি।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন পরিচালনা শান্তিপূর্ণ হওয়া জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রচারণা করতে পারে, সহিংসতা থেকে বিরত থাকে। ভোটাররা যাতে ভয়মুক্ত পরিবেশে মত প্রকাশ করতে পারেন এবং বিদেশে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণসহ ভোটের সঠিক গণনা হয়। এটাই মোটামুটি প্যাকেজ- যা আমি দেখতে চাই।

উচ্চ ভোটদানের হার নির্বাচনকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বিভিন্ন দেশে ভোটদানের হার সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকে। যত বেশি ভোট, তত ভালো। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোটদানও ইতিবাচক সংকেত। অন্তর্বর্তী সরকার দেশবাসীকে একটি আনন্দময় নির্বাচন উপহার দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে তাদের বিচার হওয়া জরুরি হলেও জার্মানি কোনোভাবেই ফাঁসির দণ্ড সমর্থন করে না। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বা রিকনসিলিয়েশন অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আরও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্কের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

রুডিগার লটজ বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটি সেক্টর, আইনের শাসন, শ্রম পরিবেশ, প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস এবং দক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ইচ্ছা আন্তর্জাতিক অংশীদাররা লক্ষ্য করছেন।তিনি উল্লেখ করেন, পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে শিক্ষার্থী যাওয়ার হার বাড়ছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সঠিক নথি দিলে ভালো হয়। অনেকেই ভুয়া নথি দেওয়ায় যাচাই করতে সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের যাচাইকারীদের।

তিনি আরও বলেন, আমরা অবশ্যই বাংলাদেশের স্মার্ট তরুণদের আনতে চাই। আমরা ভোকেশনাল ট্রেনিং দিতে চাই।

বাংলাদেশ জার্মান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের ৪০ মিলিয়ন মধ্যবিত্ত সমাজ অবশ্যই জার্মান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণ হবে। ইউরোপের অনেক দেশেও এত বড় মধ্যবিত্ত অংশ নেই। বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জার্মানিতে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশ।

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।