গ্যাস পাওয়ার দুই দিনেই বন্ধ জামালপুরের যমুনা সার কারখানা, ফের বিপাকে কৃষকরা
দীর্ঘ দিন গ্যাস সংকটে ঝুলে থাকার পর ফের সচল করা হয়েছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। তবে চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক গোলযোগে আবারও থমকে গেছে এর উৎপাদন চাকা। বয়লারে আকস্মিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার বিকেলে কারখানাটির সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানার উৎপাদন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দীর্ঘ প্রায় আট মাস কারখানার সার্বিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সম্প্রতি কাঙ্ক্ষিত চাপ পেয়ে সোমবার গভীর রাতে (রাত ৩টা ১০ মিনিট) কারখানায় সার তৈরি শুরু হয়। কিন্তু এই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে থাকার কারণে বুধবার বিকেলে বয়লারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশে গোলযোগ দেখা দেয়, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।
জেএফসিএল-এর উৎপাদন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানান, “দীর্ঘ সময় অলস বসে থাকার কারণেই মূলত বয়লারে এ ধরনের কারিগরি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে; আশা করা যাচ্ছে আগামী শুক্রবারের মধ্যে বয়লার মেরামত শেষে কারখানাটি আবারও সচল করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, দুই দিন পূর্ণাঙ্গ গতিতে উৎপাদন চালাতে না পারলেও এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটি চালুর শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনে সক্ষম হলেও গ্যাস সরবরাহে কম চাপ ও যন্ত্রাংশের পুরোনো সমস্যার কারণে বর্তমানে এটি দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার তৈরি করতে পারে। কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকলে কারখানাটিতে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়, যেখান থেকে লাভ আসে অন্তত ৬০ কোটি টাকা। অথচ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সচল ও সজীব রাখার স্বার্থে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল গুনতে হয় বিসিআইসি-কে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন এই বৃহৎ সার কারখানাটির ওপর বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলার সার সরবরাহ সরাসরি নির্ভরশীল। ১৯০০ ডিলারের মাধ্যমে এসব এলাকায় ইউরিয়া সার পৌঁছানো হয়। পরপর সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আসন্ন কৃষি মৌসুমে সার সংকট ও ডিলারদের সরবরাহে অচলাবস্থার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।