১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

হত্যাচেষ্টা মামলায় পলক, রাষ্ট্রদ্রোহে জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার কাফরুলে আব্দুল আলিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহ, জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পৃথক দুই আবেদনের শুনানি নিয়ে তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

পলককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই মো. শাহ আলম। জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান।

আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী।

পলকের মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই কাফরুলের আরমান মেইনারের গেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। তার চোখে গুলি লাগে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত ১ এপ্রিল তিনি মামলা দায়ের করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের মামলার মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২২ জুন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ‘পালন না করে’ উলটো ‘ভয়-ভীতি দেখিয়ে’ জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে মামলা করে বিএনপি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক সালাহ উদ্দিন খান এ মামলার বাদী, যিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর মামলায় দণ্ডবিধির ১২৪ (ক)/ ৪২০/৪০৬ ধারায় অভিযোগ সংযুক্ত করার আবেদন করা হয়। 

মামলায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের সিইসি কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিইসি এ কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ মামলার আসামি। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই তিন নির্বাচনে ‘গায়েবী মামলা, অপহরণ, গুম খুন ও নির্যাতনের’ ভয় দেখিয়ে, বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘গণগ্রেফতার’ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে থাকা সত্বেও সংবিধান লঙ্ঘন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, সরকারি কর্মচারী হয়েও অবৈধভাবে ভোটে হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটের কাজ সম্পূর্ণ করা ও জনগণের ভোট না পেলেও সংসদ সদস্য হিসেবে মিথ্যাভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনার সাক্ষী সকল ভোট কেন্দ্র এলাকার ভোটাররা এবং ভোটারদের মধ্যে যারা ভোট প্রদান করতে বঞ্চিত হয়েছেন তারাসহ ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যরা। 

এছাড়া ভোট কেন্দ্রে অনেক সৎ প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ অফিসারসহ স্থানীয় লোকজনসহ আরও অন্যান্যরা ঘটনার সাক্ষী হবে। 

এছাড়া ব্যালট পেপারে যে সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃতভাবে তারা ভোট দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে উল্লেখিত ঘটনার সঠিক রহস্য তদন্তে সত্য উদঘাটিত হবে।

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।