সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বাংলাদেশি এজেন্ট আব্দুল আজিজ ও উৎপল গ্রেপ্তার

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ Times Asian24
ar bg 20250918134251
Share: Facebook X WhatsApp

আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাংলাদেশ থেকে দুবাই, দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারে এজেন্ট হিসেবে কাজ করা আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল এবং দেশের সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালতে উপস্থাপন করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আব্দুল আজিজ দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি ও আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল নতুন করে মামলায় অন্তুর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশের সম্পদ অর্জন ও দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উৎপল পাল। তিনি জাবেদের দেশ থেকে দুবাই ও দুবাই থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ উৎপল পালকে মাস্টারমাইন্ড হিসাবে দেখছে দুদক টিম। যদিও তিনি আরামিট পিএলসির কর্মচারী, কিন্তু তার (সাইফুজ্জামান চৌধুরী) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (বিদেশে সম্পদ তৈরি, দেখাশোনার কাজ) হিসেবে কাজ করেছেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা ২টি ল্যাপটপ ও ২টি মোবাইল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা ফরেনসিক করার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে কাজ করেন।
এদিকে অর্ধডজন মামলার আসামি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়োনা জারির জন্য আবেদন করেছে দুদকে। যা এখন প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে। প্রায় ১২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ অর্ধশত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত চলমান।

জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রুকমীলার নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে-৯টিসহ অন্যান্য দেশেও বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/জমিসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত। এছাড়া গত ৫ মার্চ অপর এক আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে তাদের ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

অপর আদেশে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুজ্জামানের ১০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ৯৫৭ বিঘা জমি জব্দেরও আদেশ দেন আদালত। আর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *