১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজনীতি হোক যুক্তির, গায়ের জোরের নয়: তাসনিম জারা

বরিশালে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ভীষণ উদ্বেগের বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাসনিম জারা বলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আমার বা আপনার মিল নাও থাকতে পারে। তার দলের নীতি নিয়ে আপনার হাজারটা প্রশ্ন বা আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু একজন প্রার্থী যখন নিজের এলাকায় যান, তখন তাকে ঘিরে ‘চামড়া তুলে নেব’ বা ‘জুতা মারো’ স্লোগান দেওয়া কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক কালচার হতে পারে না।  

এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, রাজনীতিতে বিরোধিতা থাকবে, তর্ক হবে, আপনারা চাইলে তাকে ভোট দেবেন, না চাইলে দেবেন না। কিন্তু কাউকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা বা এমন অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য কোনো আচরণ নয়।

শেষে ডা. জারা বলেন, রাজনীতি হোক যুক্তির, গায়ের জোরের নয়।  

উল্লেখ্য, বরিশালের বাবুগঞ্জে নিজ নির্বাচনি এলাকায় রোববার (৭ ডিসেম্বর) মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এ ঘটনার জন্য বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করেন তিনি। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে নির্মীতব্য সেতুকেন্দ্রিক চাঁদা ও টেন্ডারবাজির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন ফুয়াদ। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবি পার্টির নেতা বলেন, বহু কষ্ট করে এই সেতু প্রকল্প পাশ করিয়েছি। এখন যদি এখানে চাঁদাদাবি, টেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটে তাহলে সেতুটি আর হবে না।

বক্তব্যে কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তাৎক্ষণিক ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেখানে থাকা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় ফুয়াদকে বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য নানা হুমকি দেওয়া হয়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে- বিক্ষুব্ধ জনতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে ফুয়াদকে বাবুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানান উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিক আল আমিন।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।