ভারতে ১০ দিনে তৃতীয়বারের মতো বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম

মে ২৩, ২০২৬ Imran Hossain
2305
Share: Facebook X WhatsApp

ভারতে ফের বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। এই নিয়ে গত ১০ দিনে ভারতে তৃতীয়বারের মতো বাড়ল জরুরি দুই জ্বালানি তেলের মূল্য।
এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে বেড়েছে ৮৭ পয়সা এবং ডিজেল প্রতি লিটারে ৯১ পয়সা। এতে আজ শনিবার সকাল থেকে নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোল ৯৯ দশমিক ৫১ রুপি এবং ডিজেল ৯২ দশমিক ৪৯ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোলের দাম ৯৪ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৫ বয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী কলকাতাসহ রাজ্যজুড়ে আজ শনিবার সকাল থেকে প্রতি লিটার পেট্রোল ১১০ দশমিক ৬৪ রুপি এবং প্রতি লিটার ডিজেল ৯৭ দশমিক ০২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী এবং ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম ৯০ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার সকাল থেকে সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১০৮ দশমিক ৪৯ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৯৫ দশমিক ০২ রুপি।

গত ১৫ মে সারা দেশে এক ধাক্কায় লিটার-প্রতি তিন রুপি বেড়ে গিয়েছিল পেট্রলের দাম। তার পর ১৯ মে আবার , ৯০ পয়সা করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়ে পেট্রলের দাম। এ বার ৮৭ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় গত ১০ দিনে প্রায় পাঁচ টাকা মূল্য বেড়েছে পেট্রোলের। নতুন করে দাম বেড়ে যাওয়ায় দিল্লিতে এখন এক লিটার পেট্রলের দাম ৯৯ টাকা ৫১ পয়সা। ডিজ়েল বিক্রি করা হচ্ছে ৯২ টাকা ৪৯ পয়সা প্রতি লিটারে।

নয়াদিল্লি এবং সংলগ্ন নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ প্রভৃতি এলাকায় কমপ্রেস্‌ড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি-র দাম বেড়েছে। লিটারে এক রুপি করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে প্রতি লিটার সিএনজি বিক্রি হচ্ছে ৮১ দশমিক ৯ রুপিতে। নয়ডা ও গাজিয়াবাদে প্রতি লিটার সিএনজি বিক্রি হচ্ছে ৮৯ দশমিক ৭০ রুপিতে। পেট্রোল-ডিজেলের মতো সিএনজির দামও এই নিয়ে তিনবার বাড়ল রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে।

সিএনজি গ্যাস অটোরিক্সার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে অটোর ভাড়া ফের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কলকাতায় নতুন করে সিএনজি-র দাম বৃদ্ধির কোনও তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী এক বছর সোনা না-কেনার পরামর্শও দিয়েছিলেন। বস্তুত, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর সারা বিশ্বের জ্বালানির দামের ওঠাপড়া নির্ভর করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ ঘিরে এই মুহূর্তে অনিশ্চয়তা চলছে। অনেক দেশের মতো ভারতকেও এই ধরনের জ্বালানির অধিকাংশ বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে এর প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সুরক্ষিত রাখার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন মোদি।

সূত্র : এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *