বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার ওয়াশিংটনস্থ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​বিশ্বব্যাংক জানায়, ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখা।

​কেন এই অতিরিক্ত অর্থায়ন?

​বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প কারখানার চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহজনিত বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর।

​বিশ্বব্যাংক সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে:

​”মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যার খেসারত সবচেয়ে বেশি দিতে হবে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বাংলাদেশের জন্য এই ব্যয়-সাশ্রয়ী অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
​স্বস্তি ফিরবে পেট্রোবাংলায়, কমবে স্পট মার্কেটের নির্ভরতা
​এই অতিরিক্ত তহবিলের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির বকেয়া ও নিয়মিত বিল পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

​সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থায়নের ফলে পেট্রোবাংলা আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া মূল্যের ‘স্পট মার্কেট’ (খোলা বাজার) থেকে গ্যাস কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি সংগ্রহ করতে পারবে। এর ফলে দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে, যা দেশের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

​গ্যারান্টি সুবিধা ও ঋণ পরিশোধের মেয়াদ

​বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) গ্যারান্টি সমর্থিত বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে ‘স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট’ (SBLC) ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার সুবিধা পাবেন আমদানিকারকরা, যা এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করবে। এর ফলে বাংলাদেশ বাজারের অস্থিরতা সামাল দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য গ্যাস আমদানি প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ‘এনার্জি সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল ৩৫ কোটি ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন করেছিল। নতুন এই অতিরিক্ত ৩৫ কোটি ডলার যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির মোট আকার দাঁড়াল ৭০ কোটি ডলারে। ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *