বিরোধী দমন ও প্রশাসনিক পক্ষপাত: গৃহবন্দি দশার অভিযোগ তুলে সরব মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংঘাতময় হয়ে উঠছে। রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখন এতটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে নিজ বাসভবন থেকেই বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভারতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চরম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকার হচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী মনোভাব ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ এনে মমতা বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা ও সহিংসতা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতির জটে তিনি নিজেও এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ সময় পার করছেন।
সম্প্রতি হুগলিতে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর জনতার ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে বিরোধী শিবির দাবি করেছে, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করছে। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, এসব আক্রমণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক এই সংঘাতের পাশাপাশি এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে তাকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে ব্যঙ্গ করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের একটি চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে উক্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নয়াদিল্লির এই বৈঠক থেকে প্রায় বিশটিরও বেশি বিরোধী দল একযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, অভ্যন্তরীণ যে কোনো আলোচনা ও দ্বিমত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ারই অংশ এবং আইনি বিধি মেরেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।