দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়েছিলেন গত মার্চে। সেই ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। চটে যায় ইরান সরকার। ফুটবলপাড়ায় গুঞ্জন ওঠে, দেশটির জাতীয় দলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে যাচ্ছে, এমনকি শেষ হয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও।
অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। সরদার আজমুনকে ছাড়াই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে ইরান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত স্কোয়াডে খেলোয়াড় সংখ্যা ২৬ জনে নামিয়ে আনতে হবে।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে ফুটবলারদের ঝালিয়ে নিতে তুরস্কে একটি প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে ইরান ফুটবল দল। আজ সকালেই দলটির তুরস্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা।
তবে এই ক্যাম্পের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে আজমুনের অনুপস্থিতি পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে ছবি তোলার ‘শাস্তি’ নাকি মাঠের পারফরম্যান্স, ঠিক কী কারণে বাদ পড়লেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা?
যদিও বিতর্ক শুরুর পরপরই আজমুন তাঁর ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবিগুলো মুছে ফেলেন, কিন্তু ততক্ষণে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়ার খবরটি উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, বায়ার লেভারকুসেন ও এএস রোমার সাবেক এই তারকা স্ট্রাইকার মূলত চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন।
ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই-ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন:
”সৃষ্টিকর্তার কসম খেয়ে বলছি, খেলোয়াড় নির্বাচনে মাঠের পারফরম্যান্স ও কৌশলগত যোগ্যতা ছাড়া অন্য কোনো বিষয় কাজ করেনি। সম্পূর্ণ এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আমি ৩০ জন খেলোয়াড়কে বেছে নিয়েছি।”
কোচ চোট আর পারফরম্যান্সের দোহাই দিলেও এই দলচ্যুতির পেছনে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আজমুন যখন দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন, তার কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
ওই ঘটনার জের ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এমন চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দুবাইয়ের ক্লাব শাবাব আল আহলিতে খেলা আজমুনের সেই ছবি ইরান সরকার সহজভাবে নেয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ার এখন বড়সড় হুমকির মুখে।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আরিজোনার টুকসনে বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে তারা।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানের বাকি দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর।