ডাকসুর কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সমালোচনা

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ Imran Hossain
18 02
Share: Facebook X WhatsApp

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত একটি কনসার্টে আগত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এই কনসার্টে ওঠা নানা স্লোগান নিয়েও স্যোশাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মাঠে ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টের আয়োজন হয়েছিল, সেখানেই স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিলি হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সঙ্গে এই কনসার্টের সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম।

কনসার্টস্থলে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে তুমুল সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। এটা ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন, তাও তুলে ধরছেন তারা।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী ধারা ৫(খ) তামাকজাত দ্রব্য কিনতে প্রলুব্ধ করতে বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। ধারা ৫(গ) অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা এর ব্যবহার উৎসাহিত করবার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহনও অপরাধ।

এই ধারার বিধান লঙ্ঘনে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এই আইনের ৬(খ) ধারা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করলে শাস্তি হবে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তিরটি রয়েছে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকে।

এদিকে সমালোচনার মুখে দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন মোসাদ্দিক আলী।

তিনি লিখেছেন, এ কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষ থেকে শুধু তিনিই যুক্ত ছিলেন, তবে স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ, চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

কনসার্টের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ নিয়ে মোসাদ্দিক লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল যে সংগীতানুষ্ঠানের মাঠে তারা একটি ‘স্মোকিং’ জোন করবে, যাতে ধূমপানের কারণে কনসার্টে আসা অন্যদের কোনো সমস্যা না হয়।

মোসাদ্দিক তার পোস্টে বলেন, ‘আমি এটা শুনে অনেক বেশি ইতিবাচক হই। আমি কনসার্টের পুরোটা সময় ধরে গেস্ট ও স্টেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাঠে কী হচ্ছিল, সে ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। কনসার্টের শেষদিকে আমি ফেসবুকে দেখতে পাই যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তখন আর কিছু করার সুযোগ ছিল না। আমি অবগত ছিলাম না যে তারা স্মোকিং জোনের ভিতরে ফ্রিতে সিগারেট দেবে শিক্ষার্থীদের,’।

মোসাদ্দিকের এ পোস্টের নিচেও অনেকে সমালোচনা করে মন্তব্য করছেন। এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ডাকসু কি ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে মোটিভেট করে? একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে তথাকথিত অভিযান এবং অন্যদিকে মাদক সেবনে মোটিভেট করা—এ কেমন দ্বিচারিতা? শিবির করলে কি সবকিছুই বৈধতা পায়? আশ্চর্য!’

মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার নামের রোকেয়া হলের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি জানতাম না কনসার্টের স্পন্সর কারা। এখন শুনতেছি কোনো এক বিড়ি কোম্পানি। এমনকি ফ্রি বিড়ি বিলাইছে নাকি কনসার্টে! আপনি ভাবতে পারেন এসব! শিবিরীয় ডাকসুকে বিড়িময় অভিনন্দন এমন অভূতপূর্ব কনসার্ট আয়োজন করায়,’।

অন্যদিকে কনসার্টে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে প্রচার চালান ও স্লোগান দেন। তখন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দৃশ্যত তাকে ব্যঙ্গ করে কিছু স্লোগান ওঠে।

মোসাদ্দিক ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্লোগান ওঠে—‘কোটা, কোটা’। তিনি ‘গোলামি না সংস্কার’ স্লোগান দিলে পাল্টা স্লোগান আসে ‘গোলামি, গোলামি’। তিনি ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগান তুললে পাল্টা স্লোগান আসে ‘আপস, আপস’। ‘তুমি কে, আমি কে’—মোসাদ্দিকের এই স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্লোগান আসে—‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’।

শিক্ষার্থী আছিয়া আক্তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট। আয়োজন করেছে ডাকসু আবার স্লোগান মারায় মঞ্চে—গোলামি না সংস্কার।’

আত্মপক্ষ সমর্থনে ফেসবুক পোস্টে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ‘সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা’র জন্যই দুঃখ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *