১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

গ্রেফতার সেই টগরের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল র‍্যাব

বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা ভোগের পর মুক্তি পাওয়া মুশফিক উদ্দীন টগর অস্ত্র বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। 

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। 

র‌্যাব জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে টগর সেগুলো ঢাকায় এনে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করতেন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ৩২ এমএম রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন, কাঠের পিস্তলের একটি গ্রিপ, ১৫৫ রাউন্ড .২২ ক্যালিবার রাইফেলের গুলি, একটি ৭.৬২ মিমি মিসফায়ার গুলি, শর্টগানের একটি খালি কার্তুজ, দুটি মুখোশ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রথমে আমরা শুধু অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাই। পরে গ্রেফতারের পর জানতে পারি তিনি সনি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, যা অনুসরণ করে আরও অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও জানান, টগরের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অস্ত্র মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মুগদা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মাদকের মামলাও আছে। বর্তমানে অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। র‌্যাবের দাবি, টগরের কাছে আরও অস্ত্রের সন্ধান থাকতে পারে। তার কাছ থেকে কিছু নম্বর পাওয়া গেছে, যেগুলো নিয়ে কাজ চলছে।
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ঘটনার পর মামলা হলে বিচারিক আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। একই মামলায় এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মুকি পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়, সাগর এখনো পলাতক রয়েছেন। তবে টগর কারাগারে ছিলেন এবং ২০২০ সালের ২০ আগস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। 
র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তির পর তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে আবার অস্ত্র বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

র‌্যাব জানায়, টগর অস্ত্র কার কাছে সরবরাহ করেছেন সে তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।