১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেছে নিচ্ছেন রাহুল গান্ধী, জানা গেল

কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালকে চান রাহুল গান্ধী। দলীয় সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

সূত্রগুলোর দাবি, আগামী দুই দিনে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভেনুগোপালের পক্ষে সমর্থন আদায়ে কাজ করবে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে রাহুল গান্ধী আলাদাভাবে ভেনুগোপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বলেও জানা গেছে।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) এবং আলাপ্পুঝা লোকসভা আসনের সাংসদ ভেনুগোপালকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক পোস্টার লাগানো হয়। এসব পোস্টারের পেছনে কেরালার আরেক প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ভি ডি সাথীসানের সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বৈঠকে সাথীসান উপস্থিত হলে রাহুল গান্ধী এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চান। তখন সাথীসান স্বীকার করেন যে, তিনি ভেনুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে নন।

সূত্র জানায়, সাথীসানের অভিযোগ ছিল— কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভেনুগোপাল বিধায়কদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে দলে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শিবির তৈরি করেছেন।

তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাথীসান বলেন, তিনি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনো গ্রুপ তৈরি করেননি। বরং কেরালা বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করেছেন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, সাথীসান কংগ্রেস নেতৃত্বকে বলেছেন, নেনমারা, কাজাকুট্টাম, ওয়াডাকাঞ্চেরি, নেদুমাঙ্গাড ও চেরথালা আসনে ভেনুগোপালের পছন্দের প্রার্থী না হলে দল আরও বেশি আসনে জয় পেতে পারত।

এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে অন্যদের চেয়ে ভেনুগোপাল এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে— তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করবে, নাকি মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় কোনো স্থানীয় নেতাকে বেছে নেবে।

মুখ্যমন্ত্রীর আরেক দুই সম্ভাব্য দাবিদার ভি ডি সাথীসান এবং রমেশ চেন্নিথালারও কেরালায় শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিশেষ করে সাথীসান মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএলএম) সমর্থন পাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিকে ঘিরে কংগ্রেসের ভেতরে পোস্টার যুদ্ধ ও নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।

কেরালার ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় কংগ্রেস পেয়েছে ৬৩টি আসন। আইইউএলএম পেয়েছে ২২টি আসন, ফলে সরকার গঠনে দলটির মতামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া কেরালা কংগ্রেস (কেইসি) পেয়েছে ৮টি এবং রেভ্যুলুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (আরএসপি) পেয়েছে ৩টি আসন।

সব মিলিয়ে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) জোট ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি।

কেরালা কংগ্রেস নেতারা বলছেন, বিদায়ী পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সাথীসানের বড় ভূমিকা ছিল।

 

সর্বশেষ