১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইসি সচিবের ‘অপ্রত্যাশিত আচরণে’ ক্ষোভ, নিন্দা কর্মকর্তাদের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিবের ‘অপ্রত্যাশিত আচরণের’ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উপজেলা ইলেকশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত ২ ডিসেম্বর কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ন্যায্য দাবি সংক্রান্ত কার্যবিবরণী নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে গেলে, সেখানে জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ‘অপ্রত্যাশিত আচরণ’ করেন বলে অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে। এ আচরণের ফলে অফিসিয়াল কাজ বাধাগ্রস্ত হলে তার দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলেই জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।

গত ৬ ডিসেম্বর অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে রাত সাড়ে ৮টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সাধারণ সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ সচিবের আচরণের নিন্দা অন্যতম। 

অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মো. ইউসুফ-উর- রহমান এবং আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান কার্যবিবরণী স্বাক্ষর করেন।

সভায় কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশন সার্ভিস কমিশন বাস্তবায়নসহ পেশাগত উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। 

গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হলো- 

১. নির্বাচন কমিশন সার্ভিস বাস্তবায়ন : দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধিমালা প্রণয়ন ও তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা।

২. রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে পরিবর্তন : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ইসি-এর নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া। সুষ্ঠু সমন্বয়ের স্বার্থে মেট্রোপলিটন এলাকার ন্যায় ৩০০ আসনের প্রতি আসনে দুজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পাশাপাশি সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার করার দাবি জানানো হয়।

৩. পদ আপগ্রেডেশন ও পদোন্নতি : উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ। পাশাপাশি পদোন্নতিযোগ্য সকল কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদোন্নতি প্রদান করা।

৪. অফিসকে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ : উপজেলা নির্বাচন অফিসের জন্য দুটি ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, একটি স্ক্যানিং অপারেটর, একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও একটি নিরাপত্তা কর্মী পদ সৃষ্টিসহ দীর্ঘদিনের কর্মরত অভিজ্ঞ জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা।

৫. অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি : উপজেলা অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং আঞ্চলিক কমিটি দ্রুততার সাথে ঘোষণা এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে একটি ঐক্য পরিষদ গঠন করা।

৬. যানবাহন সরবরাহ : উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য ডাবল কেবিন পিকআপ ও সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার জন্য নতুন মোটরসাইকেল সরবরাহ করা। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যানের অব্যবহৃত গাড়ি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বার্থে উপজেলা নির্বাচন অফিসের অনুকূলে বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

৭. ভোটার তালিকা মুদ্রণের দায়িত্ব : বিগত উপজেলা নির্বাচনের ন্যায় আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটার তালিকা মুদ্রণের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের অনুকূলে প্রদান করা।

৮. সিইসি-কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন : গত ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সিইসি কর্মকর্তাদের সার্ভিস কমিশন বাস্তবায়ন, আপগ্রেডেশন এবং পদোন্নতির বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে আশ্বাস দেওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

৯. গত ২ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর ন্যায্য দাবি সংক্রান্ত একটি কার্যবিবরণী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করার জন্য গেলে সিনিয়র সচিব উপস্থিত কর্মকর্তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অপ্রত্যাশিত আচরণ করায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এ আচারণে সবাই নিন্দা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য আহব্বান জানান। এ আচরণের ফলে অফিসিয়াল কাজ বাধাগ্রস্ত হলে কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবেন।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।