১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানকে বিশ্বকাপে ‘স্বাগত জানাবেন’ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইরানে। এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তারপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান।

এ ব্যাপারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আমাদের ওপর কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। তাই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বলেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনান্ড ট্রাম্প ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবেন।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো আবার অন্য কথা শোনালেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানালেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং ইতিবাচক সমাধানও মিলেছে।

তিনি জানান, আমরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছি এবং বিষয়টা হলো, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। ওই আলোচনায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপে) অবশ্যই ইরান দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

টানা চতুর্থবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার হাতছানি ইরানের সামনে। আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর কথা ইরানের। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।