১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজাদি না গোলামি— ১২ জানুয়ারির ভোটেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে : জামায়াত আমির

কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয় বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই রাজনৈতিক লড়াই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন ১২ জানুয়ারির ভোট নির্ধারণ করবে দেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, এই ভোট শুধু সরকার গঠনের নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে— দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না, আর দেশের মায়েরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন কি না।

বক্তৃতার শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে গত সাড়ে ১৫ বছরে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণ করেন। কঠিন সময়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে যারা দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। এই নির্বাচন হবে ‘আজাদি’ তথা মুক্তির পক্ষে, না কি ‘গোলামি’ বা পরাধীনতার পক্ষে—সেই সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। এই ভোট হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে এবং সিন্ডিকেট, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে একটি গণরায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো লুটেরা শ্রেণি তৈরি হতে না পারে, সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নিজেদের ভাগ্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “আমি কোনো দলের বিজয় চাই না, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।” অতীতে ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক শাসন দেশের মানুষের শান্তি, কর্মসংস্থান কিংবা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো গোষ্ঠীর শাসন কায়েম করা নয়, বরং একটি প্রকৃত ‘জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যের মাধ্যমেই বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ।

 

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।