১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

‘অভিযানে না গিয়ে থানায়’, ৩ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ভাই, সারা দিন মাঠে ছিলাম। খালি দুপুরের খাবারটা খাইতে থানায় আসছি; ওই সময় স্যার ঢুকে পড়েছেন,” বলেন প্রত্যাহার হওয়া এক কর্মকর্তা।

পুলিশের বিশেষ অভিযানের সময় থানায় অবস্থান করার অভিযোগে মোহাম্মদপুরের এক সহকারী কমিশনারসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন ঝটিকা মিছিল করতে না পারেন, সেজন্য শুক্রবার এ বিশেষ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

যে এলাকায় মিছিল হবে ,সেই এলাকার কর্মকর্তাদের শাস্তি পেতে হবে—গেল সপ্তাহে ডিএমপি কমিশনারের কাছ থেকে এমন বার্তা আসার পর মাঠে তৎপরতা বাড়ে পুলিশের।

এর মধ্যে শুক্রবার দুপুরে তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার খবর এল।

কর্মকর্তারা বলছেন, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের মাঠে বিশেষ অভিযানে থাকতে বলা হয়েছিল, যেন কেউ ঝটিকা মিছিল করতে না পারে।

এমন নির্দেশনার মধ্যে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির একজন অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে দেখেন, মাঠে না গিয়ে কয়েক কর্মকর্তা থানায় অবস্থান করছেন। এরপরই তাদের ডিউটি থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদি হাসান, মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আব্দুল আলিম ও ডিউটি অফিসার মাসুদুর রহমান।

এর মধ্যে মেহেদি হাসানকে ডিএমপি সদর দপ্তরে এবং বাকি দুজনকে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “অফিস আদেশে তো প্রশাসনিক স্বার্থে ক্লোজ করা হয়েছে দেখলাম।”

তিনি বলেন, “শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটা স্পেশাল ড্রাইভ থাকার কথা ছিল মোহাম্মদপুর এলাকায়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির একটি ঊর্ধ্বতন তদারকি টিম গিয়ে দেখে, মোহাম্মদপুর থানার সামনে পাঁচটা গাড়ি। এসি (সহকারী কমিশনার, মোহাম্মদপুর) ও পরিদর্শক (অপারেশন্স) অন্য কাজে ব্যস্ত। অথচ তাদের মাঠে থাকার কথা ছিল।

“ডিউটি অফিসারের কাজ ছিল স্পেশাল টিমগুলোর তদারকি করার। তিনি সেটা করেননি। এটা কাণ্ডজ্ঞানহীন। এ বিষয়টি কমিশনারকে জানানোর পর তাদেরকে ক্লোজ (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তদন্তের পর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে প্রত্যাহার হওয়া এক কর্মকর্তা বলছেন, “ভাই সারাদিন মাঠে ছিলাম। খালি দুপুরের খাবারটা খাইতে থানায় আসছি; ওই সময় স্যার ঢুকে পড়ছে।”

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের এমন যুক্তির বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “এখন তারা খাওয়া-দাওয়া করছিলেন বললে তো হবে না। সবাই মিলে থানায় এসে খাওয়া দাওয়া করবেন কেন, থানা কি পিকনিক করার জায়গা নাকি?”

সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।  অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মাসুদ সাঈদী। ‎বিজয় লাভের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি পিরোজপুরের সব মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তোলা। সাক্ষাৎকালে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমরা পিরোজপুরকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পিরোজপুর গড়ে তুলব। আমাদের মাঝে দলীয় বিভাজন থাকবে না, থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এর আগে ‎শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজয় পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চন্ডিপুর বাজারে আয়োজিত এক শুকরানা সমাবেশে মাসুদ সাঈদী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রতি যেন কোনো ধরনের অসদাচরণ না করা হয়। নির্বাচনে বিজয় যেন আমাদের অহংকারী না করে, বিজয় যেন আমাদের বিনয়ী করে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট— জনগণের আস্থা অর্জন করা, নতুন ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা। এদেশ আমাদের সবার। সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এদেশে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা দুর্নীতিবাজকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। ‎সমাবেশ শেষে মাসুদ সাঈদী চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, শিবিরের জেলা সভাপতি ইমরান হোসেন, মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য রাকিবুল হোসেন প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি। শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেবে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন।