মুসলিম নিপীড়ন ও উচ্ছেদ: ভারতের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের দেশব্যাপী মহাসংগ্রামের ডাক
ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, ঘরবাড়ি-মসজিদ ভাঙচুর এবং উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে এবার দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’। সম্প্রতি বোর্ডের এক জরুরি কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংস্থাটির অভিযোগ, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে তারা।
পরিকল্পিত হামলা ও উচ্ছেদের অভিযোগ
মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস জানান, ভারতে মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা এখন চরম হুমকির মুখে। বিভিন্ন রাজ্যে গণপিটুনি, উচ্ছেদ অভিযান এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার মতো ঘটনা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের বেনারসে একটি প্রাচীন মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ এবং মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আদালতের নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বোর্ড।
ল বোর্ডের মতে, কামাল মাওলা মসজিদের মামলায় ঐতিহাসিক ও সরকারি সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও আদালত মসজিদটি সরানোর রায় দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও বাজেট সংকট নিয়ে ক্ষোভ
বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকরের তোড়জোড় নিয়েও তীব্র আপত্তি জানানো হয়। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর এখন আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও এই আইন চালুর প্রক্রিয়া চলছে। মুসলিমদের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে তাদের বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতায় বড় আঘাত আসবে।
পাশাপাশি, সংখ্যালঘু উন্নয়নে সরকারি বাজেট কমিয়ে দেওয়ারও সমালোচনা করা হয়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যেও এই খাতের বাজেট প্রায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
জুলাইয়ের শেষে দেশব্যাপী আন্দোলনের রূপরেখা
সব রাজনৈতিক দলের ভূমিকার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ইলিয়াস বলেন, “কংগ্রেসসহ কোনো রাজনৈতিক দলই এখন মুসলিমদের অধিকার নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখছে না। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোও এই নির্যাতন ও বঞ্চনার খবর এড়িয়ে যাচ্ছে।”
বোর্ডের সিদ্ধান্ত: পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী জুলাই মাসের শেষ নাগাদ ভারতের মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের আন্দোলনে নামবে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। আন্দোলন সফল করতে একটি ৩০ সদস্যের ‘জাতীয় কর্মসমিতি’ বা অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।