ভুয়া ভোট ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে চলছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটগ্রহণ

এপ্রিল ২৩, ২০২৬ Imran Hossain
2315
Share: Facebook X WhatsApp

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, ভুয়া ভোট প্রদান এবং রাজনৈতিক সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বীরভূম ও শিলিগুড়িসহ বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বীরভূমের লাভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুথ জ্যাম করার অভিযোগে সাধারণ ভোটাররা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে না পেরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম লাঠিচার্জ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

নির্বাচনের এই দফায় শিলিগুড়ি ও মালদায় ভুয়া ভোটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। শিলিগুড়ির ২৩৫ নম্বর বুথে এক তরুণী প্রথমবারের মতো ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন যে তাঁর ভোট আগেই অন্য কেউ দিয়ে গেছে। একই ঘটনা ঘটেছে মালদার গাজোল এলাকার নোয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে; সেখানে রিক্তা মন্ডল বিশ্বাস নামে এক নারী ভোটার তাঁর অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে দেখেন তাঁর নামে ভোট প্রদান সম্পন্ন হয়ে গেছে।

পরবর্তীকালে প্রিজাইডিং অফিসাররা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই দুই ভোটারের ভোট পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার নির্বাচন কমিশন প্রায় ৫ লাখ ভোটকর্মী মোতায়েন করেছে। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকলেও অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বীরভূমের লাভপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কুইক রেসপন্স টিমকে বারবার হস্তক্ষেপে করতে হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গণতান্ত্রিক এই উৎসবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও সহিংসতার ছায়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

রাজ্যের এই দফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য ইভিএম বন্দি হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন বারংবার ভুয়া ভোট বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত থাকলেও বিভিন্ন বুথে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যেখানেই অনিয়ম ধরা পড়বে সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উত্তেজনার মধ্যেই ভোটারদের লম্বা লাইন প্রমাণ করছে যে সব বাধা উপেক্ষা করেই মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অনড়।

সূত্র: দ্য হিন্দু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *