চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

June 25, 2026 Times Asian24
1782363592 screenshot 6 25 2026 10 55 46
Share: Facebook X WhatsApp

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে টানতে এবং তাদের সকল সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বেইজিংয়ে একটি বিশেষায়িত ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ স্থাপন করতে যাচ্ছে ঢাকা।

​স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবর্ধন কাউন্সিলের (সিসিপিআইটি) চেয়ারম্যান রেন হংবিনসহ দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও নীতি-নির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

​বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার তাগিদ

​সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,

​”চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য আমরা বেইজিংয়ে প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সেবা পাওয়ার জন্য কোনো বিনিয়োগকারীকে আর বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের কাছাকাছি থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিতে চাই।”

 

​তিনি জানান, চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তার সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করবে।

​১৫ দিনেই মিলবে ব্যবসা শুরুর লাইসেন্স

​বিনিয়োগের পরিবেশকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

  • ওয়ান স্টপ সার্ভিস: বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-তে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ‘রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ডেস্ক’ এবং তথ্যবহুল ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট চালু রয়েছে।
  • দ্রুত লাইসেন্স অনুমোদন: সরকার সম্পূর্ণ নতুন একটি লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে যেকোনো নতুন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসার পর মাত্র ১৫ দিনেরও কম সময়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
  • বাজেট প্রণোদনা: সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষি-প্রস্তুতকরণ এবং আধুনিক বস্ত্রশিল্পের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে বিশেষ কর রেয়াত ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

​’সমতার ভিত্তিতে যৌথ সমৃদ্ধি’

​দেশের অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দাবি করব না যে আমাদের সবকিছু নিখুঁত। তবে আমাদের ঘাটতিগুলো কোথায় তা আমরা জানি এবং সেগুলো সংস্কারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

​বক্তব্যের শেষে তিনি চীনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে আসুন, বিনিয়োগ করুন। আসুন আমরা সমতার ভিত্তিতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি এবং একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *