পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, প্রাণহানি বেড়ে ৩১
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ কমপ্লেক্সে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে চালানো ধ্বংসাত্মক আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। হামলায় নিহতের পাশাপাশি বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনসের অভ্যন্তরে থাকা মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিয়েছিলেন পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সেই মুহূর্তেই বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে হামলাকারী মূল চত্বরে ঢুকে পড়ে এবং তীব্র বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরই উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তড়িঘড়ি করে হতাহতদের নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পুলিশ প্রধান (আইজি) জুলফিকার হামিদ বিস্তারিত জানিয়ে জানান, প্রথমে বিস্ফোরকবাহী গাড়িটি ভবনের ফটকে আঘাত হানে। এরপর হামলাকারীদের একটি দল কাউন্টার টেররিজম বিভাগ (সিটিডি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের দিকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপে সিটিডির দিকে অগ্রসর হওয়া হামলাকারীদের নিকেশ করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের নিকট অপর এক আত্মঘাতী জঙ্গি শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রত্যক্ষ গোলাগুলি শুরু হয়।
হামলাপরবর্তী পুরো রাতজুড়ে পরিচালিত চিরুনি অভিযানে অন্তত আটজন সন্ত্রাসীকে নির্মূল করার দাবি করেছে পুলিশ। পাকিস্তান সরকার এই হামলার পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—যাদের দাপ্তরিকভাবে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত করা হয়—তাদের দায়ী করেছে। আইজিপি জুলফিকার হামিদ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেছেন যে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটিকে পুরোপুরি মূলউৎপাটন না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের হামলায় বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়বে না।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব হামলায় মূলত দেশটির পুলিশ ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিশানা করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।