বেইজিংয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে কথা হয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে। বৈঠকে পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে শি সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ও আবাস ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২০ মে দু’দিনের সরকারি সফরে চীনে গিয়েছিলেন পুতিন। সেই সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পেসকভ বলেন, “দ্বিপাক্ষিক চা-বৈঠকের সময় এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে আলাপ হয়েছে। (ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে) প্রেসিডেন্ট পুতিন তার প্রস্তাব চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।”

তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে— সে সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি পেসকভ।

ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী অঙ্গসংস্থা আইএইএ জানিয়েছিল, ইরানের ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। এই মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়— তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অনায়াসে একের পর এক পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব।

ইরানের এই ইউরেনিয়াম দখল করতে গত বছর জুন মাসে দেশটির সামরিক ও পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালিয়েছিল ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বেশ কয়েকজন সামরিক ও পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে— তবে ইউরেনিয়ামের দখল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

তারপর একই উদ্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনী এবং টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। কিন্তু এখনও ইরানের ইউরেনিয়াম অধরা থেকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার এক সপ্তাহ পর ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরান তাতে সম্মতিও দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি নয়।

চীন সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই প্রস্তাব নিয়েই আলোচনা করেছেন পুতিন।

সূত্র : এএফপি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *