আজ রাত থেকে শুরু হচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াই। প্রথম দিনে চারটি ম্যাচ থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার ম্যাচটির দিকেই।
সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বার্সেলোনা। গত সেপ্টেম্বরে গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে ২–১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল বার্সা। তাই এবার বেশ সতর্ক হয়েই দল সাজাচ্ছেন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।
নিউক্যাসলের কাছে এই ম্যাচ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের কোচ এটিকে ক্লাবের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে উঠে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। এ ক্ষেত্রে দলটি অনুপ্রেরণা নিচ্ছে ১৯৯৭ সালের স্মরণীয় এক জয়ের স্মৃতি থেকে।
প্লে-অফ পর্বে আজারবাইজানের ক্লাব কারাবাগ এফকে-কে সহজেই হারিয়ে লা লিগার শীর্ষ দল বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিল নিউক্যাসল। তবে বার্সার বিপক্ষে তাদের সবশেষ চার ম্যাচেই হারতে হয়েছে। তবুও ইতিহাসে প্রথম দেখায় নিউক্যাসল চমক দেখিয়েছিল—১৯৯৭ সালে ফসতিনো অ্যাসপ্রিল্লার হ্যাটট্রিকে তারা ৩–২ গোলে হারিয়েছিল তৎকালীন বার্সাকে।
দীর্ঘ সময় সংগ্রামের মধ্যে থাকলেও ২০২১ সালের পর থেকে নিউক্যাসল বর্তমানে মাঠে বেশ স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহামের মতো দলকেও হারিয়েছে। প্রায় তিন দশক আগের সেই জয়ের স্মৃতি থেকেই এবার বড় কিছু করার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে তারা।
অন্যদিকে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে পাঁচ ম্যাচে ৪–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বার্সেলোনা বেশ সতর্ক। কোচ ফ্লিক মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী লিগের দল নিউক্যাসল তাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে।
এবারের শেষ ষোলোতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ছয়টি দল জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের এই লিগের শক্তি ও উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন ফ্লিক। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগ বর্তমানে বিশ্বের সেরা লিগ এবং সেখানে অনেক শক্তিশালী দল রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনার কারণেই তারা এত দলকে পরের রাউন্ডে তুলতে পেরেছে।
যদিও চলতি মৌসুমে নিউক্যাসলের পারফরম্যান্সে খরা দেখা যাচ্ছে—২৯ ম্যাচ শেষে তারা লিগ টেবিলে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চ আলাদা—এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক। তার মতে, এই পর্যায়ে ওঠা প্রতিটি দলই সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকে। নিউক্যাসলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতি ও দক্ষতায় ভরপুর, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই হবে বার্সার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।