১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

‘সতর্ক’ হয়ে মাঠে নামছে বার্সেলোনা

আজ রাত থেকে শুরু হচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াই। প্রথম দিনে চারটি ম্যাচ থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার ম্যাচটির দিকেই।

সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামছে বার্সেলোনা। গত সেপ্টেম্বরে গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে ২–১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছিল বার্সা। তাই এবার বেশ সতর্ক হয়েই দল সাজাচ্ছেন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

নিউক্যাসলের কাছে এই ম্যাচ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের কোচ এটিকে ক্লাবের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে উঠে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। এ ক্ষেত্রে দলটি অনুপ্রেরণা নিচ্ছে ১৯৯৭ সালের স্মরণীয় এক জয়ের স্মৃতি থেকে।

প্লে-অফ পর্বে আজারবাইজানের ক্লাব কারাবাগ এফকে-কে সহজেই হারিয়ে লা লিগার শীর্ষ দল বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিল নিউক্যাসল। তবে বার্সার বিপক্ষে তাদের সবশেষ চার ম্যাচেই হারতে হয়েছে। তবুও ইতিহাসে প্রথম দেখায় নিউক্যাসল চমক দেখিয়েছিল—১৯৯৭ সালে ফসতিনো অ্যাসপ্রিল্লার হ্যাটট্রিকে তারা ৩–২ গোলে হারিয়েছিল তৎকালীন বার্সাকে।

দীর্ঘ সময় সংগ্রামের মধ্যে থাকলেও ২০২১ সালের পর থেকে নিউক্যাসল বর্তমানে মাঠে বেশ স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহামের মতো দলকেও হারিয়েছে। প্রায় তিন দশক আগের সেই জয়ের স্মৃতি থেকেই এবার বড় কিছু করার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে তারা।

অন্যদিকে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে পাঁচ ম্যাচে ৪–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বার্সেলোনা বেশ সতর্ক। কোচ ফ্লিক মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী লিগের দল নিউক্যাসল তাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে।

এবারের শেষ ষোলোতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ছয়টি দল জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের এই লিগের শক্তি ও উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন ফ্লিক। তার মতে, প্রিমিয়ার লিগ বর্তমানে বিশ্বের সেরা লিগ এবং সেখানে অনেক শক্তিশালী দল রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনার কারণেই তারা এত দলকে পরের রাউন্ডে তুলতে পেরেছে।

যদিও চলতি মৌসুমে নিউক্যাসলের পারফরম্যান্সে খরা দেখা যাচ্ছে—২৯ ম্যাচ শেষে তারা লিগ টেবিলে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চ আলাদা—এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক। তার মতে, এই পর্যায়ে ওঠা প্রতিটি দলই সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকে। নিউক্যাসলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতি ও দক্ষতায় ভরপুর, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই হবে বার্সার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

সর্বশেষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। পাভেল বলেন, আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। পাভেল আরও বলেন, তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই। মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল। তিনি যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরার। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি। শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে অনুরোধ করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।