যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত

মে ২৮, ২০২৫ timesasian24
usa visa from bangladesh
Share: Facebook X WhatsApp

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সব মার্কিন দূতাবাসে শিক্ষার্থী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। খবর বিবিসির।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক গোপন বার্তায় জানানো হয়েছে, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” নতুন কোনো স্টুডেন্ট ভিসার সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণ করা যাবে না। যেসব আবেদনকারীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগে থেকেই নির্ধারিত, তারা যথাসময়ে সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বিস্তৃত যাচাই-বাছাই চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আবেদনকারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। তবে এখন তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখি কে আমাদের দেশে প্রবেশ করছে। আমরা তা অব্যাহত রাখবো।”

এই পদক্ষেপের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু অভিজাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বকেই দায়ী করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব বিশ্ববিদ্যালয় ‘বামপন্থী চিন্তাধারা’ প্রচার করছে, ইহুদিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে এবং বৈষম্যমূলক ভর্তি নীতি বজায় রেখেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত মিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করেছে, বহু শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে। যদিও এর অনেকগুলো পদক্ষেপ আদালতের রায়ে স্থগিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকারের ওপর আঘাত হানছে।

বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও বিদেশি গবেষক স্বাগত জানানোর ক্ষমতা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এক ফেডারেল বিচারক সেটি স্থগিত করেন।

হার্ভার্ডে প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বিদেশি হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য তা ভয়াবহ আর্থিক ও শিক্ষাগত বিপর্যয় বয়ে আনতে পারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *