২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিপিএলের ম্যাচ গড়ায়নি মাঠে, ক্রিকেটারদের যা বলল বিসিবি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা আজ। তবে তা শুরুর আগেই বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করছে। তা না হলে খেলা বয়কটের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

ঘটনার সূত্রপাত গতকাল বুধবার। বিশ্বকাপে খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, এই প্রশ্ন গতকাল করা হয়েছিল এম নাজমুলকে। জবাবে বিস্ফোরক মন্তব্য করে উলটো তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের পেছনে যে খরচ হয়, তার প্রতিদান ক্রিকেটাররা কী দিতে পেরেছেন? কেন? ওরা যদি কিছুই না করতে পারে, ওদের পেছনে যে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, ওই টাকা কি আমরা ফেরত চাই? উত্তর দেন আমাকে। তাহলে বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতিপূরণ কেন দেব!’

ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ক্রিকেটাররা তুলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ব্যাখ্যা নেই। ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তুলতেই পারবে না ওরা। কারণ আমরা যে প্লেয়ারদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। একটা বৈশ্বিক কাপ আনতে পেরেছে? তাহলে তো এটাও বলতে পারি যে, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি তা তোমাদের কাছ থেকে নিতে থাকি।’

এরপরই নাজমুলের পদত্যাগের দাবি তোলে কোয়াব। তা না হলে ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণাও দেওয়া হয়। ক্রিকেটারদের এই দাবির পরও এম নাজমুল ইসলাম এখনো পদ ছাড়েননি। এর প্রভাব পড়েছে মাঠে। ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচ খেলতে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্রিকেটাররা মাঠে আসেননি। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে দলগুলোর মাঠে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা তখনও হোটেলে ছিলেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে টস হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি এখনও। যার ফলে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূতই হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ‘পেশাদার আচরণ’ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি ২০২৬ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হিসেবে বিপিএলের বিশেষ গুরুত্ব আছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে এই আসরের বড় পরিচিতি রয়েছে।’

সে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিসিবি মনে করে, ক্রিকেটাররাই বিপিএল এবং বোর্ডের সব কার্যক্রমের প্রধান অংশীদার। ক্রিকেটাররাই এই টুর্নামেন্টের প্রাণ। বোর্ড আশা করছে, খেলোয়াড়রা তাদের পেশাদার মনোভাব বজায় রাখবেন। তারা টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবেন। এতে বিপিএল ২০২৬ নির্বিঘ্নে শেষ হবে।

সর্বশেষ