১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতের মহিলা বিভাগের ১০ দফা

নির্বাচন-পরবর্তী দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন আয়োজিত হয়। মানববন্ধনে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে ১০ দফা দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, সরকারপ্রধান চার স্তরের নিরাপত্তা ভোগ করেন। তার এমপি-মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রোটোকল ভোগ করেন; কিন্তু জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এ সময় রামপুরায় শিশু ধর্ষণের পর থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘটনা চেপে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নারী ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার চিত্র মূলধারার মিডিয়ায় দেখা না যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ হেঁটে যাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ চেয়ারে বসছেন, এসব নিউজ প্রচারেই মূলধারার মিডিয়াকে ব্যস্ত দেখা যায়।

গণমাধ্যমকে সরকারের চাটুকারিতা ছেড়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা চাকরি রক্ষা ও সম্মান পাওয়ার আশায় সরকারের চাটুকারিতা করে তাদের মনে রাখতে হবে, রিজিক এবং সম্মান সরকারের হাতে নয়, এটি আল্লাহর হাতে।

নারীবাদী নেত্রীরা আজ কোথায়? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কথিত ওই সব নারী নেত্রীরা সারা দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং খুনের শিকারের ঘটনায় চুপ কেন?

নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ প্রশ্নবাণে জর্জরিত ছিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারবে কিনা, মহিলারা নিরাপদ থাকবে কিনা? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় বর্তমান নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন পুরুষ।

মানববন্ধনে অন্য বক্তারা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কারের সঙ্গে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অপরাধীকে গ্রেফতার করে বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা মেনে নেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম। দাবিগুলো হলো-

১. সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

২. অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. এ ধরনের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

৪. রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

৬. আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।

৬. প্রতিটি মা-বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৭. গ্রেফতারকৃত অপরাধীদের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে- তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৯. মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

১০. শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর, কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের রাজনীতি বিষয়ক সেক্রেটারি ডা. হাবীবা চৌধুরী সুইট, মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি আমেনা বেগম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জান্নাতুল কারীম সুইটি প্রমুখ।

সর্বশেষ